কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই ও আমরা সাধারণ মানুষ

কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই

কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই ও আমরা সাধারণ মানুষ

কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই ও আমরা সাধারণ মানুষ 1000 761 সীমানা ছাড়িয়ে

 কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই ও আমরা সাধারণ মানুষ

 

সম্প্রতি প্রায় তিন সপ্তাহ কোভিড রোগে আক্রান্ত হয়ে, উঠে দাঁড়ালাম।কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিতান্ত সাধারণ মানুষ হয়েও ভাল আছি,আজ বলব করোনায় কাটান কয়েক দিনের গল্প।covid কে হারানোর প্রস্তুতির গল্প,আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা।  খুব বড় কোন জটিল সমস্যা না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। 
এই রোগ থেকে এখনো পর্যন্ত সরাসরি আরোগ্যলাভের দিশা মেডিক্যাল সায়েন্স দিতে পারে নি। আমার লেখাতেও স্বাভাবিকভাবেই তেমন কোন দিশা পাবেন না। তবে যেটা পাবেন সেটা হচ্ছে কিছু সূত্র। যা সাধারণ মানুষ হিসেবে আপনাকে রোগের সঙ্গে লড়াইয়ে দিতে পারে অনেকটা সাহস আর কিছুটা প্রস্তুতি।
খুব ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে লিখব কিনা ভাবছিলাম বহুদিন। অবশেষে বন্ধুমহলের প্রশ্রয়ে, সাহস করেই ফেললাম।

তবে যে যে চিন্তা করছিলাম লেখার ক্ষেত্রে সেগুলি হচ্ছে-

১) পড়ে আত্মীয়স্বজন-বন্ধুরা চিন্তিত হবেন আমার স্বাস্থ্য নিয়ে।
২) ‘টেক কেয়ার’ এবং ‘গেট ওয়েল সুন’ জাতীয় কমেন্টে আমার wapp ভরে যেতে পারে।
৩) এইটা ঘোষণা করার মানে সামাজিকভাবে অনেক মানুষ আমাকে দেখলে অনেক পরেও ভয় পেতে থাকবেন। কপাল ভাল থাকলে আমার ডাকনামও ‘করোনা’ জাতীয় কিছু হতে পারে।
৪) আমার পরিবারের অন্য সদস্যরা যাঁরা ত্রিসীমানায় আসেন নি, যেমন – মা/ বোন/শ্বশুরবাড়ির লোকদেরও এই সংক্রান্ত প্রচুর প্রশ্ন এবং তার সঙ্গে সন্দেহের দৃষ্টিতে পড়তে হতে পারে অনির্দিষ্টকালের জন্য।
৫) Sympathy জোটানোর প্রচেষ্টা ভাবতে পারেন যে কেউই।

কোভিড ও সোশাল স্টিগমা

তবে social stigma নিয়ে এত কিছু ভাবার পরেও আজকে লিখতে বসলাম। শেষে ভেবে দেখলাম যে, এই রোগের অন্যতম শত্রু কিন্ত social stigma ও mass hysteria। 

আমি যেহেতু বিপদমুক্ত, আমার অভিজ্ঞতা থেকে সাহস নিন। তবে এ অভিজ্ঞতা কিন্ত শেয়ার করছি সাধারণ-সুস্থ মানুষের জন্য।

 কোন COPD বা অন্য কোন Critical Illness অথবা Senior Citizen র জন্য ‘ কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই  ‘ লেখা টি নয়।

জোর দিয়ে বলি –অতিমারীর বিরুদ্ধে লড়াই কিন্তু সাহসের সঙ্গে করেছি এবং লড়াইয়ের প্রথম ধাপ পেরিয়ে গেছে। এরপরে তিনমাস পেরোলে আবার হতেই পারে, অন্য বিপদও হতে পারে। তবে আপাতত মনে হয়েছে যে আমার প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা আমার বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে নেওয়া উচিত। বিশ্বাস করুন শুধুমাত্র প্রস্তুতি ছিল বলেই ন্যূনতম medical interventionএ সুস্থ হয়েছি। আশাকরি কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ যদি পড়েন, সাহস পাবেন। বিশ্বাস করুন এই রোগ মানেই সব শেষ নয়, সুস্থ হতে সবারই দশ লক্ষ টাকাও লাগে না।

করোনায় সাধারণ মানুষদের সবারই শ্বাসকষ্ট হয়না……

কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই করতে একটু সাহস সঞ্চয় করতে পারেন, তাহলেই যথেষ্ট।

 ভারতে মৃত্যুহার বেশি না। পড়ুন https://www.thehindu.com/news/national/coronavirus-indias-covid-19-tally-fatality-rate-per-million-population-lowest-in-world-health-ministry/article32012829.ece

প্রথমেই বলে রাখি আমি কোনোদিন ভাবি নি যে আমার কোভিড হবে না, বরং সত্যি বলতে কি আমি খুব ভালো করেই জানতাম হবে। যেহেতু আমি জরুরী পরিষেবা ক্ষেত্রের কর্মী তাই আমার কোভিড হওয়ার সম্ভাবনা অনেকের চেয়ে বেশি।

কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে  একটু প্রস্তুতি জরুরী।

সেই মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে যখনই কোভিড রোগীর প্রতি নেটিজেনরা আক্রমনাত্মক হয়েছেন, আমি এক-দু’টি কথা সোশাল মিডিয়ায় বলেওছি। যেমন- আজ রাম-রহিমবাবুকে আপনারা দোষারোপ করছেন, পরবর্তীকালের কথা ভাবুন। Pandemic বাড়ির এমন মানুষ বয়ে নিয়ে আসবেন অথবা এই রোগে আক্রান্ত হবেন যার পর কেউ আক্রান্ত হয়ে বাড়ির লোককে দোষারোপ করতেও পারবেন না।  আপনি যে কোন ব্যক্তিকে আক্রমণ করার আগে, troll করার আগে, কোভিড নিয়ে মশকরা করার আগে একবার দয়া করে ভাবুন- এটা কিন্তু Pandemic! সর্বোপরি, এর হাত থেকে কোন মানুষ নিষ্কৃতি পাবে এবং কোন মানুষ পাবে না তা শুধুমাত্র একটা অ্যাক্সিডেন্ট। সত্যি বলতে কি জানেন, এই কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই সবচেয়ে বড় অন্তরায় আমাদের মন। আমাদের মনে আছে এর প্রতি ভয়, রোগীর প্রতি avoidance, লকডাউন-এর উপর অতিরিক্ত মানসিক নির্ভরতা। আমার বাড়ির কারুর কিছু হবে না এই মানসিকতা থেকে আমাদের মনে হয় এবার বেরোতে হবে।

সমস্ত সাবধানতা নেওয়া সত্ত্বেও আক্রান্ত আমি

তা বলে আমি যে অসাবধান ছিলাম এমন কিন্তু একেবারেই নয়। সৌভাগ্যবশত আমার চাকরি এখনও রয়েছে, দিন পনেরোর খাবার ও ওষুধ কেনার সামর্থ্য ছিল। আমি আমার অফিসের সহকর্মীদের তুলনায় অনেক বেশি সাবধান থাকতাম। অনেক বেশি সময় মাস্ক পরেছি। বেশি sanitizer ব্যবহার করতাম। যথেষ্ট মাত্রায় গ্লাভস ব্যবহার করেছি এবং যথেষ্ট মাত্রায় ওষুধ সমেত প্রস্তুত ছিলাম। তাও জানতাম এই রোগ আমার জীবনে অপ্রতিরোধ্য।

লেখাটা পাঁচ পর্বের, বড় বলে অগ্রিম ক্ষমা প্রার্থনা করলাম।

পর্ব ২- প্রস্তুতি পর্ব

সতর্কীকরণ – কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোন COPD patient বা অন্য কোন Critical Illness অথবা Senior Citizen কেউ এটি পড়বেন না।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের মূলধন কিন্ত সাহস। আমার এই সাহস ছিল যে আমার কোভিড হলেও প্রাণহানি হবে না। Data & statistics কিন্ত মানুষের পক্ষে রায় দিচ্ছে বারবার। কম মানুষই মারা যাচ্ছেন, omen read করুন। প্রস্তুতির নিয়ে কিন্ত অনেকের অগোচরেই প্রথম পর্বে আমি তুলে ধরেছিলাম তিনটি বিষয়। বলেছিলাম –

১) কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেউ ভয় বিক্রি করলেও আমি নেব না –

এই মানসিক প্রস্তুতি। এইটা ভাবার সাহস জোগাড় করুন যে – Pandemicএ যে কেউই আক্রান্ত হতে পারেন এবং যেকোনো পারিবারিক সদস্যের মাধ্যমে অন্য পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তেই পারে।

যে রোগে পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ আক্রান্ত হবেন তার কবল থেকে আমরা সবাই মুক্তি পেতে পারি না। কিন্ত আমরা বেশিরভাগ মানুষ বেঁচেও যাব। উদাহরণ? এই তো আমার মতন আম আদমি! সিনেমা হল বন্ধ। খবর কাগজে যখন পাতার পর পাতা ভয় বিক্রি হয় তা দেখলাম horror moviesএর চেয়েও বেশি জনপ্রিয় হয়। কাগজ বা চ্যানেল বেচতে কেউ horror sale করবে তখন একবার হলেও আমার মত কোটি কোটি না মরা মানুষের কথাও ভাবুন।

৩৬ বছরের ডাক্তারবাবু, ৩০ বছরের নার্স, ৩৩ বছরের WBCS Officer, ৩৫ বছরের দিদিমণি যেমন চলে গেলেন অশীতিপর বৃদ্ধও তো বেঁচে ফিরলেন কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ! কই তাঁর ইন্টারভিউ কেন বিক্রি হচ্ছে না !আমরা এই সুদীর্ঘ লচকডাঊন লড়েছি নিজের নিজের মতো করে ,আমার বিশ্বাস এবার ও আমরা পারব।http://debanjanbagchi.com/নাগরিক-দিনলিপি-১৩/

২) কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামাজিক চাপ-

রোগে একবার আক্রান্ত হলে মানুষ ভেবে ফেলছেন অনেক কিছু অপ্রয়োজনীয় বিষয়। সেগুলি যতটা রোগ সংক্রান্ত ,তার থেকে বেশি আশপাশের সমাজ ও পরিবেশ সংক্রান্ত। এখানেই সেই social stigma কাটিয়ে ওঠার প্রস্তুতি। রোগ হতেই পারে, হয়েছে হয়েছে। কয়েক কোটি লোকের হয়েছে! যে সমাজকে আপনি রোগাক্রান্ত হয়ে ভয় পাচ্ছেন, সে সমাজ আপনার যোগ্য নয়।
রোগ হলেও যে social stigmaর কাছে আমরা নতজানু হয়ে আছি সেটাকে ছুঁড়ে ফেলে দিন। সুস্থ হওয়ার পরও যে মানুষটির সামনে যেতে আপনি ভয় পান, তাকে বর্জন করেই নয় বাকি জীবন চলুক।

৩)  করনা যুদ্ধ সাধারান মানুষের রাষ্ট্রের প্রতি অতি নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দিয়েছে-

অর্থাৎ বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র লকডাউন করে, খাবার জোগান দিয়ে, ওষুধের যোগান ঠিক রেখে এবং তার সঙ্গে অন্যান্যভাবে parenting করে আমাদের পাশে দাঁড়াবে এই মানসিকতা। এখানেই আমরা নিজেদের গুরুত্বকে খাটো করি ও লকডাউন বা রাষ্ট্রের গুরুত্বকে বাস্তবের থেকে অনেকটা amplify করে দেখেছি। Market Economyর যুগে যা এক্ষুনি সম্ভব নয়।

যাঁরা বলছেন লকডাউন করতে তাঁরা সব precautions নিয়েছেন? তাঁরা থুতনিতে মাস্ক পরেন না? চায়ের দোকানে চা খান না? বাড়িতে কাজের লোক আসে না? চোখ চুলকায় না তাদের? তাদের বাড়ির সব সদস্য কি সমাজ বিচ্ছিন্ন? এখনও অবধি এমন কোন পথ নেই যাতে pandemic আটকায়। আমি নিজের জীবনে বুঝলাম করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের উপায় হল সাহস, প্রস্তুতি ও সাবধানতা। এই তিনটে মানিব্যাগে রাখা, বাকিটা লড়ে নেব আমরা।

অনেক হল। চলে আসি পরের পর্বে, অর্থাৎ আমার প্রস্তুতি নিয়ে। নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ হিসেবে কোভিডের সঙ্গে লড়াইয়ের প্রস্তুতি আমি শুরু করেছিলাম, এই বছরের মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই।

করোনা যুদ্ধে আমার প্রস্তুতি

ধূমপান বর্জন  করতে হবে কোভিডের সঙ্গে লড়তে গেলে-

আমি শখে ধূমপায়ী। আমার এক বন্ধু আমাকে এই সময় সজাগ করে একটি বিপদ নিয়ে। ধূমপান করার জন্য হাত যেহেতু সিগারেট বাড-এর মাধ্যমে মুখে বারবার টাচ হয় বা দোকানদার হাতে করে দেন, সেটা বিপজ্জনক। আমি এই সময় সিগারেট খাওয়া (খুবই কম খেতাম) বন্ধ করে দিই।

২) কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইতে নেমে শরীরচর্চা রপ্ত করা –

বিভিন্ন জার্নাল এবং খবরের মাধ্যমে জানতে পারি যে এই রোগে ফুসফুসে আক্রান্ত হতে পারে, তাই আমি এক-দেড় ঘন্টার মতন মর্নিং ওয়ার্ক করার অভ্যাস রপ্ত করি। অভ্যাস না থাকলে করতে হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যকে বসে বসে দোষ দিলে হবে না।
এছাড়াও breathing exercise রপ্ত করলে ভাল হয়, সময়ের অভাবে আমার রপ্ত করা হত না। এই রোগে breathing exercise খুবই প্রয়োজন।

৩) যেকোনো মুহূর্ত থেকেই কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আগামী দশ-পনেরো দিন চলার মতন, ন্যূনতম খাদ্য-দ্রব্য ঘরে মজুত রাখা অভ্যাস করি-

ডিম
মাছ
চাল, ডাল, তেল, নুন, চিনি

৪) কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ হিসেবে  নিম্নলিখিত ঔষধপত্র জোগাড় করে স্টক করেছিলাম –

নিচে রইল আমি যা যা ওষুধ খেয়েছি। মনে রাখবেন এটা কোন প্রেসক্রিপশন নয়। আমি অন্য কাউকে বলছিও না এই ওষুধগুলো খেতে। সবার সব ওষুধ suit করে না, আমি এগুলি যে আমার suit করে সে বিষয়ে নিঃসন্দেহ ছিলাম। আমি এসব ওষুধ মজুত রেখেছিলাম সেটাই শুধু বলছি, Dosage নিয়ে কোন মন্তব্য করছি না – ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সময় নষ্ট করবেন না

মানুষ কোভিড হয়েছে কি হয়নি এটা ভেবে মূল্যবান ২/৩ দিন নষ্ট করছে। এই রোগ কিন্ত প্রথমেই জানান দেয় সে সমারোহেই এসেছে। আমি বিশ্বাস করি না ব্যক্তিগতভাবে, ওই কাগুজে লেকচার “১৫% শতাংশ মানুষ হয়ত বোঝেনই নি যে তাঁরা কোভিডে ভুগে সুস্থ হয়ে গেছেন”। যে বুঝতে পারেনি তার covid হয়েছে তাকে নিয়ে কিছুই বলার নেই। তবে খুব জোর দিয়ে বলছি, প্রথম দিনেই আমি বুঝতে পেরেছি এ রোগ Covid ছাড়া কিছু হতেই পারে না। কিছু জোরদার symptoms থাকে যা বাকিগুলির চেয়ে আলাদা। আমি প্রথম দিনেই বুঝেছি এটা অবশ্যই অন্য রোগ। আমি প্রথম দিন থেকেই ওষুধ শুরু করেছি নিজে নিজে, তবে ডোজ জেনেছিলাম বহুবার করে ও নানা সোর্স থেকে। আর আমি এটাও জানতাম যে Covidএ এক্ষুনি আমি মরব না। কারন খুব কম মানুষই মারা যাচ্ছেন।

কি কি ওষুধ হাতের কাছে রাখবেন

 Azithromycin 500(ডোজ না জেনে খাবেন না। নিজের শরীরের অবস্থা নিয়ে সম্যক ধারণা থাকা দরকার)

 Zinc Supplements
 A2Z gold(vitamin)
 Celine 500(vitamin c)
 Calpol 650 (30 tabs for 2 people)
 Flexon MR (গলা ব্যাথা)
* রেমিডিসিভির বা ফাভিপিরাভির ছিলনা, খেতে বলেনও নি ডাক্তারবাবু।

৫) নিম্নলিখিত যন্ত্রপাতিগুলো জোগাড় করে রাখুন কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বা হদিশ রাখুন –

যাতে চট করে আপনার লাগলে তৎক্ষণাৎ পেয়ে যেতে পারেন। সে আপনার ঘরে না থেকে আপনার আত্মীয় স্বজনের বাড়িতেও থাকুক, কিন্তু তা যেন চট করে পাওয়া যায়।

 Thermometer

 Pulse oxymeter

আমার কেনা হয়নি। অ্যামাজনে কবে সস্তায় কি পাওয়া যাবে এই চক্করে কিনিনি, কিন্তু সৌভাগ্যবশত আমার অসুস্থতার পরদিনই আমার এক শুভানুধ্যায়ী আমাকে তাঁর অক্সিমিটারটি ব্যবহার করতে দেন। প্রতি পরিবারে একটা পাল্স অক্সিমিটার নামক যন্ত্রটি কিনে রাখার পরামর্শ দেবো। বেশ বড় সংখ্যক কোভিড আক্রান্ত মানুষ কম অক্সিজেন স্যাচুরেশনে দিব্যি স্বাভাবিক থাকেন। একে হ্যাপি হাইপক্সিয়া বলা হচ্ছে। আমার এই সমস্যা হয়েছিল।

পাল্‌স অক্সিমিটার কি কি জানা জরুরী

অনেকেরই spo2 85% এও কোনও শ্বাস কষ্ট ছিল না। তবে দুর্বলতা ছিল। এটা দেখেই চিকিৎসক কোভিড এর কথা বলে। ততক্ষণে রোগী যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গিয়েছেন, বোঝাই যায়নি। সাধারণ Flu-এর লক্ষণ থাকলেই পাল্স অক্সিমিটার দিয়ে সকাল দুপুর ও রাতে অক্সিজেন স্যাচুরেশন দেখা আবশ্যক। 92 তে সতর্ক হয়ে চিকিৎসক এর খোঁজ খবর শুরু করতে হবে। 90তে তৈরি আর এর নিচে নামলেই ভর্তির কথা ভাবতে হবে। কারও যদি জটিল কোমর্বিডিটি থাকে তবে তো বটেই। মনে রাখতে হবে এক্ষেত্রে একটা স্তরের পর অক্সিজেন স্যাচুরেশন দ্রুত কমতে থাকে। তখন সমস্যা জটিল হয়ে যায়। কোভিড সংক্রমণের পরিণত দশায় ফুসফুসে জমতে থাকা অর্ধতরল বস্তুটি পরিমাণে বাড়ে ও ঘনতর হয়। তখন ভেন্টিলেটর, একমো ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই কোমর্বিডিটি থাকলে অধিক সতর্কতা আবশ্যক। অনেকেই ঠেকে শিখেছেন, আপনারা দেখে শিখুন।

৬) কোভিডের সঙ্গে লড়াই করতে গেলে স্বাভাবিক খাবারের বাইরে কিছু খাবার আপনাকে স্টকে রাখতে হবে-

যেমন- ড্রাই ফ্রুটস(কাজু, আখরোট, কিশমিশ, আমন্ড, বাদাম ইত্যাদি), ফ্রুট জুস তার সঙ্গে কিছু ফল। এটা করতে বলছি তার কারণ, মাঝখানে একটা phaseএ আপনার স্বাদগ্রন্থী কাজ না করতে পারে। এবং ঘ্রাণশক্তি নাও থাকতে পারে সে ক্ষেত্রে আসবে ক্ষুধামান্দ্য। তখন এ ধরনের খাবার আপনার শরীরকে চটজলদি রসদ যোগান দেবে। কোনটাই শস্তার না, বুর্জোয়া  বুর্জোয়া দুর্গন্ধ পাবেন এসব পথ্য দেখে। কিন্ত কাজে আসবে।

৭) Vapour নেওয়া ও gargle করা উপকারী কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে –

vapour নিদেনপক্ষে দু’বার ও gargle চারবার করতে হয়। আমিও করতাম, এতবার করা কিন্ত সহজ না। অধিকন্তু ন দোষায়। যেদিন অসুস্থতা বোধ করছেন সেদিন থেকেই কিন্ত এগুলো শুরু করতেই হবে।  করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ প্রথম তিনদিন “করছি – করব” করেই কাটিয়ে দেন।

৮) কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আদা, মধু, গোলমরিচ ইত্যাদির পাচঁন ভাল লাগে –

ওষুধ সম্পর্কে কেউ জানেন না, এও ওষুধ এমন বলব না। তবে এতে মুখে স্বাদ ফেরে দেখেছি। Raw material জোগাড় করে রাখুন, আক্রান্ত হলে কাজে লাগবে। পড়ে থেকে নষ্ট হলেই বরং আপনার কপাল ভাল।
এর কোনটাই আমার নিজের বিদ্যা নয়, আমিও শিখেছি। বিভিন্ন সময়ে আমার আগে অন্যান্য মানুষ, যাঁরা ভুগেছেন তাঁদের দেখে। অথবা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় publication পড়ে আমি যেটুকু শিক্ষালাভ করেছিলাম সেটুকু আমি summarize করে নিয়েছিলাম, এবং সেটুকুই আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি।

পরে আসবে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে test এর বাস্তব চিত্র। Covid test নিয়ে সাধারণ মানুষের ও রোগীর কিছু ভুল expectation থাকে, এবং তার সঙ্গে বাস্তবের ফারাক অনেক। কিছু সম্ভাব্য পথও বলে দেব।
 এখন লিখব করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের সম্ভাব্য প্রস্তুতি কি হতে পারে তা নিয়ে। যদি আমার অভিজ্ঞতা আপনার প্রস্তুতিপর্ব নিয়ে expectation meet না করে, দয়া করে জানান। যদি একজন মানুষেরও মনে সাহস আসে, আমার এইসব বকবক পড়ে, উদ্দেশ্য সফল বলে জানব।
আর একটু ভাবুন একবার, এর অনেকগুলোই আপনি তো অলরেডি জানেন। তাও ওষুধ কেনেন নি বা সু-অভ্যাস তৈরি করছেন না। কিসের অপেক্ষা? এটাও সত্যি যে ১০০% মানুষ সুস্থ হচ্ছেনও না, কাজেই দয়া করে minimum প্রস্তুতিটুকু নিন।

পর্ব ৩ – কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সংক্ষিপ্ত দিনলিপি (কবে কি ওষুধ ও পথ্য খেলাম। প্রয়োগের আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।)

সতর্কীকরণ –  COPD patient বা অন্য কোন Critical Illness অথবা Senior Citizen দের জন্য আমার এই আর্টিকেল ‘কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইনয়

বেঁচে যাবই এই সাহস ছিল। লড়ার ন্যূনতম অস্ত্রশস্ত্র মজুতও ছিল, এও জানতাম -আমি অক্ষত শরীরেই বেঁচে উঠব। সঠিক সময়ে মঞ্চে পদার্পনও করল Covid 19।  যতই যা থাকুক কোভিডের বিরুদ্ধে এই খেলায় সাধারণ মানুষ হিসেবে আগে প্র্যাকটিস ম্যাচ তো খেলা নেই! প্রথমবার ব্যাট ধরেছি জীবনে। ইডেন গার্ডেন্সে প্রবীর মুখার্জি green top পিচ করেছেন, আর হাইকোর্ট প্রান্ত থেকে বল নিয়ে ধেয়ে আসছে শোয়েব আখতার।

কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের তখন ভরসা একটাই – প্লাস্টিকের গার্ড। ভয়টা হল – লোহার গার্ড ১৫ই অগস্টেই মার্কেটে আসবে।
এই প্রসঙ্গে দেখে নেওয়া যাক প্রথম কয়েকদিন আমি কেমন ছিলাম?

প্রথম দিন-কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই –

সকালে অফিস যাওয়ার সময় মনে হয় গা-টা একটু ম্যাজম্যাজ করছে। অসুস্থ কিনা নিশ্চিত ছিলাম না, তাই অফিস গেলাম। দুপুরের দিকে অনুভব করি, সম্ভবত আমার জ্বর আসছে। সন্ধ্যে নামার আগে আমি নিশ্চিত হয়ে যাই, আমার জ্বর আসছে। আমার যে সহকর্মীকে গাড়িতে করে নিয়ে আসতাম, তাকে জানিয়ে দিই নিজের মতন ফিরতে। বাড়ি এসে কোনমতে খেয়ে antibiotic আর vitamin tablet শুরু করে দিলাম, প্রথম দিনেই (রাতে ফেসবুক দেখার ক্ষমতাও ছিল না🤒)। খিদে ছিল। Antibiotic পাঁচ দিন টানা খেয়েছি। খাবার আগে দুর্বলতা দেখে নিশ্চিত হয়ে যাই এ Covid ছাড়া কিছু হতেই পারে না। 
ওষুধের সঙ্গে পাচঁ থেকে ছয় বার gargle এবং দুবার vapour নিয়েছি। 

দ্বিতীয় দিন –কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই

অনুভব করি জ্বরের সঙ্গে শুকনো কাশি, সারা গায়ে ব্যথা ও প্রচণ্ড দুর্বলতা। ওষুধ চলছে, ৫ বার প্যারাসিটামল-ও খেতে হল। ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার অবস্থা নেই। কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি জানি, আমার সম্বল সাহস আর আত্মবিশ্বাস। বেশিরভাগ মানুষই বেঁচে উঠছেন। WHO বলেছে।সারা বিশ্বে ২০% মানুষকে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে, THE HINDU বলেছে ভারতে ১০%-এর কম। আমি এমনিতে সুস্থ, তাই যাওয়ার দরকার নিশ্চিতরূপে পড়বে না। খিদে ছিল, গন্ধ পাচ্ছিলাম। ওষুধের সঙ্গে পাচঁ থেকে ছয় বার gargle এবং দুবার vapour নিয়েছি। 

তৃতীয় দিন –কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই –

প্যারাসিটামল খেতে হল সারা দিনে চারবার। কয়েকবার 100র নিচে নামল জ্বর। যেটা হচ্ছিল না। তবে এই দিন থেকে আমার গলা ব্যথাও শুরু হয়। খিদে কমে গেল, তবে কোন সমস্যাতেই আমার মনে হয় নি হাসপাতালে যাব।

ওষুধের সঙ্গে পাঁচ থেকে ছয় বার gargle এবং দুবার vapour নিয়েছি। আদা, রসুন, গোলমরিচ, চা মিশ্রিত পানীয় দিনে দুবার পান করতে শুরু করি। কড়া গন্ধের জন্য মুখে স্বাদ এনে দিত।

চতুর্থ দিন –কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই-

এই দিন আমার শারীরিক অবস্থার একটু উন্নতি হল। জ্বর এল তিনবার। দুর্বলতা কমল। বাকি সমস্যাগুলো ছিল সেগুলো রইলো কিন্তু তুলনায় কম। যোগ হল হজমের সমস্যা। Gargle ও vapour চলছিল।
এই দিনে আমি প্রথম ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করি ভিডিও কনফারেন্স করে। ডাক্তারবাবু আমাকে বলেন, যা ওষুধ খাচ্ছি ঠিকই খাচ্ছি। HCQS বন্ধ করতে বলেন। তার সঙ্গে আমাকে কোভিড টেস্ট করতে বলেন। কোভিড টেস্ট এর খবরাখবর নিতে শুরু করি।

কোভিড টেস্টকরা হয় সম্ভাব্য ল্যাব

কোথায় কোথায় টেস্ট হচ্ছে জানতে গিয়ে অ্যাপোলো জানায় সাতদিন পরে ফোন করতে। এমআরআই আমাকে জানায় ১২/১৩ দিন পরে ডেট পাওয়া যাবে, অন্যান্য বিশিষ্ট প্রাইভেট জায়গাগুলি যেরকম মেডিকা বা ডিসান অথবা উডল্যান্ড ফোন ধরেনি। সুরক্ষা হোম কালেকশনের লোক PPE না পরিয়েও পাঠায়। কিন্তু আপনি যেদিন যোগাযোগ করবেন সেদিন থেকে মোটামুটি লোক আসতে দিন সাতেক সময় লাগে।
ডঃ লাল প্যাথল্যাব কালেকশনের জন্য লোক পাঠায়। কোন গাড়ি থেকে দুইজন PPE পরিহিত লোক আপনার বাড়িতে ঢুকবেন। এরকম অবস্থায় আমি এমন অতিথির জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। ওই পোশাকের পরিষেবা কর্মী আমার বাড়িতে ঢুকছেন, তা আমার ত্রস্ত প্রতিবেশীর হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেবেই। আশপাশে পরিচিত বার্তা দিতে পারে, সেই social stigma! কি বার্তা? নিম্নরূপ, তবে হিন্দিতে অনুবাদ করে নেবেন-
“ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে সেই বার্তা রটি গেল ক্রমে
বাগচী মহাশয় যাবেন এপোলোর ধামে
বাইপাস লাগি। প্রতিবেশীর ভ্রুকুটি গেল জুটি
কত বালবৃদ্ধ নরনারী; ভেন্টিলেটর দুটি
প্রস্তুত হইল এপোলোর খাটে।”
না গেলেও প্রতিবেশীরা সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েই ছাড়ত। আমি কাউকে জানাই নি কিছু কাছের মানুষ ছাড়া।

পঞ্চম দিন –কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই –

তিন থেকে পাঁচ এই দু’দিন oxymeter দেখাচ্ছিল oxygen level ৮৮ থেকে ৯২ এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ৯০এর নিচে থাকা উচিত নয়। স্ত্রী-ও আক্রান্ত, কিন্ত oxygen level সৌভাগ্যবশত ৯৫এর নিচে নামেনি। আমি খুব বিশ্রী ঝুঁকি নিয়েছিলাম। খুবই বাজে কাজ। তবুও পঞ্চম দিনে একটু শারীরিক বল পেতে শুরু করলাম। কিন্তু দেখলাম আমার ঘ্রাণশক্তি চলে গেল কয়েক দিনের জন্য। স্বাদ পাচ্ছিলাম।
তবে ডিম এর স্বাদ পাউরুটির মতন, পাউরুটির স্বাদ কেক-এর মতন, লাউয়ের এর স্বাদ চালকুমড়োর মতন মাংসের স্বাদ বাসা মাছের মতন লাগছিল। পরীক্ষার হলে বাগবাবুর প্রশ্ন পেয়ে এমন হত। মনে হত অংকটা আসলে বীজগণিত, কিন্ত উত্তরে পৌঁছনোর জন্য মনে হয় ত্রিকোনমিতির আঁক কষতে হবে। এমনকি এ ভূগোলের অংকও হতে পারে! এই সময় থেকে ফ্রুট জুস ও ড্রাই ফ্রুট খেতে থাকি এক বন্ধুর পরামর্শে।
ব্যক্তিগতভাবে মনে করি অসুখের দিনলিপি যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত এবং বর্ণনা বর্জিত হওয়া ভাল। আর সত্যি বলতে কি এর পর থেকে আমার শারীরিক অবস্থার উন্নতি শুরু হয়। এ ঘ্যানঘ্যান এখানেই থাক।

পর্ব ৪ – কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই -সাধারণ মানুষের যে ভুলগুলি বা ভুল ধারণা থেকে দূরে থাকা উচিত

যে ভ্যারিয়ান্টটি আমার সংক্রমণ ঘটিয়েছিল সে একেবারে ধ্রুপদী ধারার খেলোয়াড়। এমন ক্লাসিক্যাল সিম্পটমস, যেন টেক্সট বইএর পাতা থেকে উঠে এসেছে। সবশেষে, প্রথম এক সপ্তাহের অভিজ্ঞতায় বেশ কিছু ভুল ধারণা অথবা ভ্রান্তি থেকে আমার মুক্তি ঘটে। সবই নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা।
ভুল ধারনার তালিকা –

১) TEST, TEST, TEST slogan কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইতে তৃতীয় বিশ্বে বাতুলতা মাত্র –

কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে আমরা যারা সাধারাণ মানুষের টেস্ট করানো সম্বন্ধে খুব একটা ধারণা নেই তাদের বিপাকে পরতে হচ্ছে। WHO মার্চ মাসেই বলে রেখে দিয়েছে “টেস্ট, টেস্ট, টেস্ট”। ইস, কি মিথ্যা! টেস্ট শব্দটি তিনবার উচ্চারণ করাতে তা অবশ্যই একটি নাটকীয়তা অর্জন করেছে। তবে যদি WHO কর্তা তৃতীয় বিশ্বে দাঁড়িয়ে শোনাতে যান, উত্তরে গালি শুনতে হবে।

আপনি যাবেন আর টেস্ট হয়ে যাবে এমন একেবারেই না। এখনই খবর নিয়ে রাখুন আপনার কাছে কোথায় টেস্ট করা হচ্ছে। কপি লাগে প্রেসক্রিপশন ও আধার কার্ডের। আর নাম, ঠিকানা, বয়স ইত্যাদি।

বেসরকারি নামী ল্যাবের অবস্থা বলেছি। এবার বলি, কলকাতাতে যে সরকারি জায়গাগুলিতে টেস্ট করা হচ্ছে সেখানে টেস্ট করতে তাহলে এমতাবস্থায় কি করব! দেখলাম বেসরকারি নামী brandএর ল্যাবের থেকে জলদি সাহায্য পাওয়ার আশা নেই। হোম কালেকশন করার কিছু লোক আছে। কিন্তু যিনি আসবেন তিনি আগে লটারির টিকিট বেচতেন নাকি চুল কাটতেন না ব্লাড কালেকশন করতেন নাকি মাংস কাটতেন…. আমার কোন ধারণা নেই। আর সবাই swab collection করতে কিন্ত জানেন না।

২) PRIVATE LABORATORYতে service ভাল –

অবশেষে খবর পেলাম একটি জায়গায় sample collection হচ্ছে এবং সেখান থেকে সুরক্ষা, ডঃ লাল প্যাথ ল্যাব এবং on quest বলে তিনটি ল্যাবরেটরি থেকে টেস্ট করানো হচ্ছে। ষষ্ঠ দিনে গাড়ি চালিয়ে সেখানে গিয়ে মনে পড়ে গেল সেই সময়ের কথা যখন টেস্ট খেলা ষষ্ঠ দিন অবধি গড়াত। আশির দশকের স্মৃতি – খাঁটি চিত্রমন্দির সিনেমার সামনের দৃশ্য। যেন রঞ্জিত মল্লিক অভিনীত এবং অঞ্জন চৌধুরী পরিচালিত কোন সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। ঠিকমতন শক্তভাবে দাঁড়াতেই পারছিলাম না, তার মধ্যেই দেড় ঘন্টা ক্যাশ কাউন্টারের লাইন! খাড়া রোদ, সেদিন প্রচন্ড গরম ছিল। শুধু গেঞ্জি নয়, প্যান্টও আমার গায়ের সঙ্গে ঘামে লেপ্টে গেল।

যা দেখলাম

নিয়মের বালাই নেই। মোটামুটি চার ফুটের ব্যবধানে প্রায় ৫ জন মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। মাঝেমাঝেই ঠেলাঠেলিও চলছে। দেড় ঘণ্টা পর ক্যাশ কাউন্টারে পৌঁছে দেখলাম সেখানে এয়ারকন্ডিশনার চলছে ১৮ ডিগ্রিতে। সেখানে Receptionistকে দেখে অন্য সময়ে বলতাম –

“ঠান্ডি হাওয়ায়ে, লেহেরাকে আয়ে

রুথ হ্যায় জওয়া, তুম হো ইয়াহা..”

সেদিন কিছু নিরস লেনদেনের কথাই শুধু হল। আমাকে কিছু form দেওয়া হল। Fill up করার পরে যতক্ষণে টাকা জমা করলাম, ততক্ষনে এ.সি.তে আমার গেঞ্জি গায়েই শুকিয়ে গেছে। এরপর শুরু ৩ ঘন্টা sample collection লাইন। সেখানে একবার বৃষ্টি নামল এবং আমি “এক পশলা বৃষ্টি”তে ভিজেও নিলাম।  আক্ষরিক অর্থেই তারপর –

“টিপ টিপ বর্ষা পানি

পানি নে আগ লাগাই”। 

বাড়ি এসে কপাল আবার আগুন। বলাবাহুল্য বৃষ্টির সময় আমার আশপাশে কোনো শ্বেতবস্ত্র পরিহিতা সুন্দরীও ছিলেন না। সব দলবদলের স্মৃতি মধুর হয়না, যেমন জল শোভন। সব বৃষ্টিতে ভেজার স্মৃতি মধুরও হয় না, যেমন এই অধমের।

একটা সিরিয়াস কথা বলি – অনেক মানুষই আমাকে বারবার টেস্ট করানোর জন্য বলছিলেন। অনুরোধ রইল, মানুষকে এ বিষয়ে পরামর্শ দেবেন তখনই যখন নিজে তাঁকে নিয়ে যেতে রাজি হবেন। এসব বলবেন না। কোভিড টেস্টের লাইনে দাঁড়ালে সেখান থেকেই কিন্ত রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আমি খুব ভয়ে ছিলাম আমার কোভিড টেস্ট নেগেটিভ আসে কিনা। কারণ় আমি জানতাম মনে মনে আমার কোভিড। আমারও যদি টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে তাহলে দেশে টেস্টই ভুল ভাবে হচ্ছে।

উপরের দুটি পয়েন্টের সমাধান – যদি আর্থিক সমস্যা থাকে বা শহর থেকে দূরে থাকেন কেউ, সরকারি হাসপাতালে যেতেই হবে। কলকাতায় সরকারি হাসপাতালে করাতে গেলে এই অসুস্থ শরীরে 6 ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হবে। তাও আমার অনুরোধ এমন কাউকে দিয়ে পরীক্ষা করাবেন না যিনি trained নন।

মানুষ প্রাইভেট জায়গায় করতে চাইলে কিছু collection centre হয়েছে। যেমন কৈখালীতে উমা, বেলেঘাটায় divine, আর ছোট শহরে Dr. লাল প্যাথল্যাবও সংগ্রহ করছে। খরচ বেশি, ৩৫০০/- মতন(মনে পড়ে “দাম বেশি নেয় নিক, জিনিসটা তো ঠিক ঠিক দিচ্ছে”?.. নবান্ন, বিজন ভট্টাচার্য)। সুরক্ষা বাড়ি এসে করতে ২৫০০/- নেয়, কিন্ত ওই waiting time লম্বা- সময় লাগে সাতদিন।

৩)HCQS অথবা হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ভুমিকা কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে

এই রোগের চিকিৎসায় অপরিহার্য নয়। আমি তিনদিন নিজে নিজে খাওয়ার পর ডাক্তার বারণ করেন। এর পেছনে ডাক্তার না বললে ছুটবেন না। এই ওষুধ, শ্রী ডোনাল্ড ট্রাম্প মহাশয়ের কল্যানে খ্যাত। সম্ভবত অদ্যাবধি ওঁর বল(no pun intended)বর্ধনেই শুধুমাত্র কাজে লাগছে।

১৭ই জুন থেকে WHO কিন্ত এই ওষুধ কোভিডের চিকিৎসায় প্রত্যাহার করেছে। একটা কথা বলা আবশ্যক। যাঁদের প্যালপিটেশন বা অ্যারিদমিয়া আছে, ই সি জি তে কোনো জটিলতা আছে তাঁরা নিজে থেকে HCQ নেবেন না। লিভারের সমস্যা থাকলে তো একেবারেই না। প্রসঙ্গত, এই ওষুধটির প্রোফাইল্যাক্টিক প্রয়োগে সংক্রমণ কম হচ্ছে বলে শুনলাম। কিছু চিকিৎসক নিজেরাও তা নিচ্ছেন; WHO ভিন্ন কথা বলার পরেও। এই ওষুধ আমি তিনদিন খেলেও বাড়ির সদস্যের প্যালপিটেশন আছে বলে এটা দিই নি। তাতে দু’জনেই একই সময়ে সুস্থ হয়েছি।

৪) কোভিড লড়াইয়ে সব মানুষের ৬ থেকে ১০ দিনের মাথায় শ্বাসকষ্ট হয়না –

কম মানুষই এ সমস্যায় পড়েছেন, প্রথম দুই তিনদিন এসবে সময় নষ্ট না করে প্রথম থেকে চিকিৎসায় জোর দেওয়া শ্রেয়।

৫) Covid 19 আসলে এক ধরনের flu –

একেবারেই না। সাধারণ fluএর থেকে এর প্রাবল্য বেশী, বেশি অসুস্থতা আসে। তাই প্রস্তুতি সঠিক হতে হবে, মনে ভরসা রাখবেন তখনই যখন প্রস্তুতি থাকবে। নাহলে কিন্ত ওটাকে বলে – দুঃসাহস ও overconfidence।

৬) করোনা Antibiotic  নিরাময় হয়-

না। Antibiotic, secondary infection থেকে আমাদের ওই সময়টাতে রক্ষা করে। একইভাবে ভিটামিন, আদা, লেবু, জিংক কিছুই সরাসরি ওষুধ না। সবই বিভিন্নভাবে (পরোক্ষে) আমাদের সাপোর্ট দেয়।

৭) কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের  চিকিৎসা করাতে দশ লক্ষ টাকা খরচ-

হয়ত কিছু ক্ষেত্রে হয়েছে। তবে এই চিত্র সর্বত্র প্রযোজ্য নয়। দামী হাসপাতালে এমনি চিকিৎসার খরচও বেশিই হয়। আমার অনেক ফেলে ছড়িয়েও ১০ হাজারও খরচ হয়নি কিন্ত।

৮) Positive মাত্রেই ambulanceএ “তুলে” নিয়ে যাওয়া হয় না –

অন্তত দমদমে তো নয়ই। ফোনে তিনদিন খবরাখবর নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সরকারি মহল থেকে। সুস্থ আছি ও গৃহবন্দী জেনে তাঁরা আশ্বস্ত হয়েছেন।
পরেরদিন লিখব শেষ পর্ব। তাতে বলব আমি কি কি ঠিক করেছি আর ভুল করেছি (ভুলগুলি অন্য কারুর করা উচিত নয়)।
সুস্থ থাকতে রোগ প্রতিরোধের প্রস্তুতি ও মনে সাহস রাখুন। অহেতুক ভয়ে দিন গুনবেন না। কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাধারণ মানুষেরই সিংহভাগ ক্ষেত্রে জয় হচ্ছে।
আর, দয়া করে এই রোগ নিয়ে মিম ও মশকরা করবেন না। কেউ করলে বারণ করুন।

কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই-পর্ব -৫

কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অত্যন্ত সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার প্রতিবেদন। এই সিরিজে আগের দিন বলেছিলাম যে আজ আমার ভুল ও ঠিক-এর খতিয়ান দেব। পরে চিন্তা করে দেখলাম যেগুলো ঠিক ভাবি সেগুলো ঠিক কিনা জানিনা। কারন আমি চিকিৎসক নই। আমি সাহস নিয়ে লড়েছি আর অন্য কোন মানুষ আমার থেকে সংক্রমিত হননি, এটুকুই শান্তি। এর বেশি বললে বাগাড়ম্বর হয়ে যাবে।
আসলে আমি সৌভাগ্যবান যুদ্ধ জয় করে অন্তর্দ্দর্শনে র সুযোগ পেয়েছি।ঠিক মহাভারাতের সাঞ্জয়ের মত,নিজে কুরুক্ষেত্রে থেকেও সেই যুদ্ধ বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা তার ছিল না।সে যখন নিজেই দিশেহারা তখন ই  ঋষি ব্যাসদেব তাকে বলেন,’আমি জানি তুমি কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ বিশ্লেষণ করতে চাইছ,কিন্তু তা তুমি পারবে না।’কারণ  কুরুখত্রের যুদ্ধ শুধু যুদ্ধ নয়  এটা হচ্ছে দর্শন।

 আমার ভুলগুলোই শুধু তুলে ধরব-

তাই অনুরোধ করব আমার ভুল থেকে আপনারা শিক্ষা নিন।  এই ভুলগুলো আপনারা করবেন না।
১)  লকডাউন আমাকে সুযোগ দিয়েছিল গৃহকর্মে স্বনির্ভর হয়ে ওঠার(আত্মনির্ভর না)। পটু হওয়াই উচিত ছিল। বাস্তবে, আমি গৃহকর্মে নিযুক্ত শ্রমিকদের উপর এখনও নির্ভরশীল।
২) কোভিডে অসুস্থ হয়ে পড়ার দিন কয়েক আগে আমার জুতো ছিঁড়ে যায়। উচিত ছিল হয়ত কোন অনলাইন শপিং মাধ্যম থেকে জিনিস কিনে নেওয়া। আমি বিখ্যাত বিপণি থেকে কিনেছিলাম।
৩)  অসুস্থ হয়ে পড়ার পর প্রথম তিনদিন আমি ডাক্তারের কাছে যেতে পারিনি। ডাক্তার দেখাতে যেতে পারিনি, উঠতে পারছিলাম না। নিজে নিজে ওষুধ খেয়েছি, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। যদিও আমার সঙ্গে ডাক্তারের ওষুধের মত মিলে যায়, তবুও। প্রথম তিনদিন কোন ডাক্তারকে যোগাযোগ করতে পারিনি, যিনি ভিডিও কনফারেন্সিং করে দেখছেন। কে অনলাইনে দেখছেন, সে তথ্য হাতের মুঠোয় রাখতে হয়।
৪) ডাক্তারবাবু আমাকে অনেক টেস্ট করতে দেন। যার মধ্যে অন্যতম ছিল ইসিজি, লিভার ফাংশন টেস্ট এবং রক্তের অন্যান্য আনুষঙ্গিক টেস্ট। কোভিড টেস্ট ছাড়া কোনোটাই আমি করিনি। দুর্বল স্বাস্থ্যের কারণে আমি ইসিজি করাতে যেতে পারতাম না। সৌভাগ্যবশত বেঁচে গিয়েছি কিন্তু এমন ভুল বাঞ্ছনীয় নয়।
৫) কোভিডের টেস্ট সম্বন্ধে কোন স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। আশপাশে কোথায় কোভিড টেস্ট সহজে হচ্ছে জেনে রাখা অবশ্যই উচিত ছিল।
৬) হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ডাক্তার বললে তবেই খাওয়া উচিত। এইসব ওষুধ খাওয়ার আগে ইসিজি অবশ্যই করতে হয়। আমি না করেই তিন দিন খেয়েছিলাম, যা প্রাণঘাতী হতে পারত।
৭) কিনছি কিনব করেও অক্সিমিটার কেনা হয়নি সংক্রমন হওয়ার আগে। এমন ভুল করবেন না।
৮) অক্সিমিটারে অক্সিজেন লেভেল প্রায় তিন দিন ৯০ এর ওপরে-নীচে ঘোরাফেরা করছিল। অর্থাৎ ৮৮ থেকে ৯৩ পর্যন্ত। আমি কোন ডাক্তারকে জানাই নি শ্বাসকষ্ট ছিল না বলে। এমনকি কোন অক্সিজেন ডিলার/সেন্টারের সঙ্গেও কথা বলিনি। একেই বলে অপরিণামদর্শীতা।
৯) ক্রেডিট কার্ডের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি আজকাল। বাড়িতে মাত্র সাত-আট হাজার টাকার বেশি ছিল না। এত কম লিকুইড ক্যাশ নিয়ে এই অসুখের মোকাবিলা করা বড় ঝুঁকিপূর্ণ।
১০)    এটা শুনতে অদ্ভুত লাগবে। দ্বিতীয়দিন মনে হয়েছিল টাকা-পয়সা-বাড়ি-ইনসিওরেন্স-পি.এফ. সব তো আছে! কিন্তু কোথায় কি কাগজ কেউ জানে না! কিছু হলে কে কোথায় কি যোগাযোগ করবে জানে না। সকলেরই প্রতি মুহূর্তে রোগ নির্বিশেষে এই প্রস্তুতি সম্পূর্ণ রাখা উচিত।

য্দি আপনি সত্যি কোন কভিড আক্রান্ত র জন্য কিছু করতে চান! কি করতে পারেন ?

নটেগাছটি মুড়োল। এই প্রশ্ন যদি কারুর মনে আসে, দু’কথা বলি-
১) কোন whatsappএ “নতুন ও প্রয়োজনীয়” তথ্য সরবরাহ করে অর্থাৎ তথ্য দিয়ে ভারাক্রান্ত না করে।
২) অধিক কৌতূহল প্রকাশ না করে।
৩) সোশ্যাল মিডিয়াতে জোকস ও মিম শেয়ার না করে।
৪) “আমার মনে হয়” সংক্রান্ত কিছু না বলে।
৫)  আর ওভাল হয়,একটি ভাল ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা করে দিন । সে হোক video conferencing। খুব ভাল হয় payment ও যদি করে appointment করে দেন। রোগী সুস্থ হলে ওইটুকু টাকা ফেরত পেয়েই যাবেন।
৬) নিজে ফোন করে জেনে ফোনে বলে দিন। সহজে-সস্তায়-কাছে কি ভাবে সে টেস্ট করতে পারে। কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইতে। এর চেয়ে বড় সাহায্য হয়না।
৭) দরকারি খাবার-ওষুধ-পথ্য দরজায় নামিয়ে দিয়ে এসে।
৮) কোন বিষয়ে চাপাচাপি না করে।

আবার বলি তোতাপাখির মতন।

 কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইতে রোগ প্রতিরোধের প্রস্তুতি ও মনে সাহস রাখুন।

 অহেতুক ভয়ে দিন গুনবেন না।

কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাধারণ মানুষেরই সিংহভাগ ক্ষেত্রে জয় হচ্ছে।

দেবাঞ্জন বাগচী।
Summary
কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই-আমরা সাধারান মানুষ
Article Name
কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই-আমরা সাধারান মানুষ
Description
কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিতান্ত সাধারণ মানুষ হয়েও ভাল আছি,আজ বলব করোনায় কাটান কয়েক দিনের গল্প।covid কে হারানোর প্রস্তুতির গল্প,আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা।
Author
১ comment

Leave a Reply

Solve : *
12 ⁄ 2 =