গালুডি, ঝাড়খন্ড, ছোটনাগপুর মালভূমি – অনাবিষ্কৃত ভারতবর্ষ : দ্বিতীয় পর্ব

গালুডিতে সূর্যাস্ত

গালুডি, ঝাড়খন্ড, ছোটনাগপুর মালভূমি – অনাবিষ্কৃত ভারতবর্ষ : দ্বিতীয় পর্ব

গালুডি, ঝাড়খন্ড, ছোটনাগপুর মালভূমি – অনাবিষ্কৃত ভারতবর্ষ : দ্বিতীয় পর্ব 1024 683 সীমানা ছাড়িয়ে

গালুডি, ঝাড়খন্ড, ছোটনাগপুর মালভূমি – অনাবিষ্কৃত ভারতবর্ষ : দ্বিতীয় পর্ব

ঝাড়খন্ড রাজ্যের ছোট্ট অংশ গালুডি একসময় কিন্ত পশ্চিমবঙ্গেরই অংশ ছিল। অনাবিষ্কৃত ভারতবর্ষের দ্বিতীয় পর্বে আপনাকে স্বাগতম। আগের দিন বলছিলাম ঝাড়খন্ডের মশানজোর-এর গল্প। আজ ছোটনাগপুর মালভূমিরই গালুডি।

 গালুডির প্রথম সকাল

সকালে স্টিল এক্সপ্রেসে নেমে দেখতে পেলাম, টিকিটঘরের সামনে সবুজ পতাকা দুলিয়ে চলেছেন রেলকর্মী। টিকিটঘরের স্থাপত্যে এখনও ঔপনিবেশিক গন্ধ মাখা। স্টেশনে মোরাম বিছানো সমান জমির ওপর সারিবদ্ধ কিছু কদম, ছাতিম আর গুলমোহর গাছ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, ওটাই প্ল্যাটফর্ম। ছায়ায় বসে কিছু আদিবাসী। বাঙালি পর্যটক কিছু ঝাড়গ্রাম বা ঘাটশিলায় আসেন। গালুডিতে খুব বেশি কেউ এসে থাকেন না। গালুডিতে একা এসেছি, তেমন কোন “দেখার জায়গা”য় যাব ভাবিওনি। উদ্দেশ্যও একেবারেই স্পষ্ট নয় নিজের কাছে। হয়ত শহুরে জীবন থেকে দুই দিন ছুটি নিয়ে ছোটনাগপুর মালভূমির আদিবাসীদের সাহচর্য।

ট্রেন থেকে কমসংখ্যক যাত্রীই নেমেছেন। বেশিরভাগই পর্যটক বলে মনে হয়। গলায় ক্যামেরা ঝুলিয়ে নিয়ে এক স্থানীয় মানুষের থেকে জেনে নিলাম হোটেল কোনদিকে। স্টেশনের পাশেই এক আদিবাসী পাড়ার মধ্যে দিয়ে ধীর পায়ে রওয়ানা দিলাম পদব্রজে। সাঁওতালদের গ্রাম দেখে আমি বারবার ওঁদের সৌকর্যবোধকে কুর্ণিশ করি। পরিপাটি করে নিকানো দেওয়াল ও ঘরদোর, কিছু বাড়ির দেওয়ালে চমৎকার ছবিও আঁকা। শব্দ বলতে মৃদুমন্দ বাতাস আর কয়েকটি মোরগের ডাক। মনোরম সকালের আরামটুকু চেটেপুটে উপভোগ করছেন সাঁওতাল পুরুষেরা। এঁদের ঘরনীরা হয়ত ইতিমধ্যেই জীবিকার সন্ধানে বা গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত। হোটেলের পথটা চট করে ফুরিয়ে গেল।

গালুডি, ঝাড়খণ্ড

গালুডি,ঝাড়খণ্ডগালুডি,ঝাড়খণ্ডগালুডি,ঝাড়খণ্ড

গালুডি,ঝাড়খণ্ড

সাঁওতালদের কুটির

গালুডি,ঝাড়খণ্ড

গালুডি তে আমার আস্তানা

গালুডিতে হোটেল ভাড়া নিয়েছি শহরের যেদিকে জনবসতি কম, সেদিকেই। বলা বাহুল্য আপনি ছোটনাগপুর মালভূমিতে গেলে বেশিরভাগ জায়গাতেই বিলাসবহুল হোটেল পাবেন না। তবে আমি যেখানে উঠেছি আমার বেশ পছন্দ হয়েছে, নাম কে ডি প্যালেস। সুন্দর খাবার, চমৎকার ব্যবহার।

ওঁদের লিংক দেখতে চাইলে এখানে দেখতে পারেন – https://kdpalace.com

ছোটনাগপুরের সারিবদ্ধ টিলাগুলি আমার ঘরের বারান্দা থেকে দেখছি। ওদিকে আদিবাসী কিশোরেরা ফুটবল খেলছে। বাইরে শহুরে ভাব যে একেবারে আসে নি তা নয়। রাস্তাঘাট পেকেছে, ডিশ টিভি’র তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। রাস্তায় স্মার্টফোনে মগ্ন আদিবাসী কিশোর।

বেরিয়ে পড়লাম সুবর্ণরেখার টানে

হাওড়া থেকে গালুডিতে পৌঁছে গেছি সকাল দশটা নাগাদ । কিছু খেয়েই হোটেলের রাঁধুনিকে ভজিয়ে তার সাইকেল জোগাড় করলাম। রওয়ানা দিলাম ঝাড়খন্ডের সুবর্ণরেখার দিকে।

পথে কিছু পরিত্যক্ত ও ভগ্নপ্রায় বাড়ি আজও বাঙ্গালি ‘ড্যান চি’ বাবুদের ‘চেঞ্জে’ আসার কথা বলে। ভেঙ্গে পড়া বাগানের সামনে লিলিফুলের ঝোপ, তুলসিগাছের জঙ্গল। এক সময়ে এই বাড়িতে সন্ধেবেলা শাঁখ বাজত নিশ্চয়ই। তখন গালুডি ছিল পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত। লিচু, আম, কাঁঠাল সব গাছেই ফল আসছে। ভেঙ্গে পড়া চুন-সুরকির ছাদ, জানালার গরাদ, কার্নিশের গঠন বলছে বাড়িটি প্রায় স্বাধীনতার সময়ে তৈরি। দেওয়ালের কিছু অংশে এখনও সাদা রঙ। ইংরেজ আমলে প্রায় এই পুরো গালুডির মালিক ছিলেন নন্দীবাবু। এখন তাঁদের বংশধরেরা কলকাতা নিবাসী। বিভূতিভূষণ পড়ার সময় পড়েছিলাম গালুডির কথা। একদিন উনি উঠেছিলেন গালুডির পাহাড়ে। দূরে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। পরদিন সকালে উঠে দেখতে গিয়েছিলেন নন্দীবাবুর খামার।

এক প্রজন্মের সযত্ন নির্মান অন্য প্রজন্মের কাছে বোঝা হয়ে গেছে হয়ত। সবকিছুরই সেরা সময় থাকে, এই বাড়িরও ছিল।

সাইকেল চলছে গালুডি’র মোরামের রাস্তায়।

ঝাড়খন্ডের মোরামের রাস্তা-

মোরামের রাস্তা

একফসলি জমির আলে হাঁটতে গিয়ে একবার কাঁধেও তুলে নিলাম। এভাবেই পৌঁছে গেলাম সুবর্ণরেখার তীরে। চুপ করে বেশ খানিক সময় বসে ছিলাম। প্রথম গ্রীষ্ম, ভীষণ সুন্দর হাওয়া দিচ্ছে। সকাল এগারোটাতেও গরম লাগছে না। মানুষ এতই বিরল যে মহুয়ার এমন ছায়ায় যেকোন যুগল ঘনিষ্ঠ হতে পারে। এখানে প্রকৃতি শহুরে মানুষকে নরম বিছানা ও বাতানুকূলের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মনে পড়তেও দেবে না।

সুবর্ণরেখার তীরে –

সুবর্ণরেখা

কিছুটা দূরে,এক আদিবাসী জাল ফেলছেন নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে, উঠছে ছোট ছোট মাছ। নাম দীপু সোরেন, জানালেন উনি সাঁতার জানেন না। সাঁতার না জানা জেলে! এ সত্যিই অনাবিষ্কৃত ভারতবর্ষ , ভাগ্যিস এসেছিলাম গালুডিতে।

গালুডি তে অলস পূর্ণিমার চাঁদ আর আমি

বিকেলে বেরিয়ে ফাঁকা প্রান্তরে সূর্যাস্ত দেখছিলাম। আকাশে মেঘ থাকায় শেষ অবধি সূর্য দেখা গেল না।

সূর্যাস্ত

জঙ্গলের দেশে আজ পূর্ণিমা। আমার আর চাঁদের মাঝে কোন ফ্ল্যাটবাড়ি বা ইলেক্ট্রিকের তার নেই। জঙ্গলে পূর্ণিমার অপেক্ষায় তৃষ্ণার্ত ছিলাম কয়েক দশক। সেই পূর্ণিমা দেখব বলে মনে মৃদু শিহরণ। একসময় পূর্বদিকে নীলরঙা পাহাড়ের মাথার ওপর হঠাৎ মনে হল সামান্য লাল এক বিন্দু দেখা যাচ্ছে। তার চোখে চোখ রাখতেই সে লজ্জায় আরেকটু লাল হল। সুবর্নরেখার ওপর সন্ধে নেমে আসছে, জলে ফুটছে চাঁদের লাল প্রতিবিম্ব।

পূর্ণিমা

মাথার ওপর দিয়ে বাসায় ফিরছে একদল পানকৌড়ি আর শামুকখোল। কোকিল, ফিঙে আর পিউ কাঁহা’র শিসে বেলাশেষের সুর ভেসে আসছে। বাতাসে মহুয়ার মিষ্টি গন্ধ, পায়ের কাছ দিয়ে চলে গেল এক মেঠো ইঁদুর। চাঁদ আস্তে আস্তে তার লজ্জা নির্মোচন করে, একসময় তার পুরো শরীর মেলে আকাশে ধরা দিল। তখন শুধু আমি আর সাদা ধবধবে চাঁদ। পাঁচ কোটি বছর পুরোনো ছোটনাগপুর মালভূমি আমাকে যেন শেখাচ্ছে অপেক্ষা ঠিক কত বছর ধরে করা উচিত।

দ্বিতীয় দিনে ,এবার গন্তব্য ছোটনাগপুর মালভূমি

পরদিন ঠিক করলাম অটো ভাড়া যাব ছোটনাগপুর মা্লভূমির পাহাড়গুলো দেখতে। অটোচালকের সঙ্গে দরদাম করে ভাড়া ঠিক করার পর ভাবলাম প্রাতরাশ সেরে নিই। সকালে খেলাম ঝাড়খন্ডের লুচি তরকারি জিলিপি ও চা। গালুডিতে চায়ের মিষ্টি একটু কড়া।

আমার অটোচালক বাঙালি। সে ছোকরার নানান সুখ-দুঃখের গল্প শুনতে শুনতে পৌছে গেলাম এক পাহাড়ের পাদদেশে। আমরা সমভূমির লোকেরা একে পাহাড় বললেও আদতে একটি টিলার বেশি কিছু নয়। এক মহুয়া গাছের নিচে তার অটো দাঁড় করিয়ে অটোওয়ালা বলল – দাদা ঘুরে আসুন তাহলে পাহাড়ের মাথা থেকে। আমি অটোর কাছেই থাকব। যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে আমাকে মোবাইলে ফোন করে নেবেন। টিলায় উঠতে উঠতে দেখলাম আদিবাসী মহিলাদের সারি। অরণ্য সম্পদ আহরণ করে ফিরে যাচ্ছেন ঘরের দিকে। তাঁদের মাথায় কাঠকুটো বাঁধা।

প্রকৃতি অকৃপণ ..

পথে যেতে যেতে চোখে পড়ল কুরচি- শাল- পিয়াল- মহুয়া-পাকুড়- কেঁদ গাছ।

সদ্য প্রস্ফুটিত শালের পাতা –

সদ্য প্রস্ফুটিত শালের পাতা

হ্যাঁ ফুল নয়, এ শাল গাছেরই পাতা –

শাল গাছের পাতা

কুরচি ফুল-

কুরচি

টিলার মাথায় উঠে দেখলাম আরো উঁচুতে আরেক টিলা-

আরো উঁচু পাহাড়

পাহাড়ের উপর উঠে দেখলাম, দূরে আরেকটি পাহাড় আরো একটু উঁচু। হয়তো সেখান থেকেই আরও একটু উঁচু পাহাড় কোথাও দেখা যাবে। এভাবেই হয়তো উঁচুতে, সেখান থেকে আরও উঁচুতে যাওয়ার লোভ মানুষকে পেয়ে বসে। আমি আবার এত উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষ নই। গালুডির এক টিলাতেই খুশি, নেমেও এলাম টিলা থেকে। অটোচালক গাড়িতেই বসে ছিল, এবার চললাম হোটেলের দিকে। সেই কোন ভোরে উঠেছি, দুপুরে খেয়ে একটু ঘুম দরকার। অনেক মানুষ দেখলাম, গল্পগুলো শোনা হল না। আপনারাও দেখতে পারেন কিছু মুখ।

গালুডি স্টেশনে বিকেলের আড্ডা

বিকেলে চা খেয়ে আবার চললাম স্টেশনের দিকে। আমাকে গালুডি স্টেশনের ঔপনিবেশিক প্ল্যাটফর্ম  অদ্ভুতভাবে  গ্রাস করেছে। সময় যেন থেমে আছে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত স্টেশন মাস্টারের অফিসে। পাশেই ঘাটশিলাতে অনেক ইংরিজি মিডিয়াম স্কুল, ফ্ল্যাটবাড়ি তৈরি হয়েছে এখন। ঢালু ছাদ, গালুডি আছে গালুডিতেই।

সন্ধেবেলা আবার হাজির হলাম সেখানে, বসলাম। দ্বিতীয় পর্বে হাতে চায়ের কাপ।

অজানা সাঁওতাল উপকথা…

আলাপ হল ঝাড়খন্ডের স্কুলের শিক্ষক গণেশ মুর্মুর সঙ্গে। বলছিলেন এই পাহাড়ে ওঁরাও, মুন্ডা, হো-দের বাস। টেবো নামে নাকি এক জায়গা আছে কাছে। তার খ্যাতি আদিম প্রকৃতি ও স্বাস্থ্যকর জল-হাওয়ার জন্য। লাগোয়া জঙ্গলমহলে রয়েছে অভয়ারণ্য। দেখা মেলে ভল্লুক, হাতি, বাঘ, চিতার। এ ছাড়া দেখার জায়গার মধ্যে রয়েছে শৈলরাকাব পাহাড়, নরসিংহগড়। এসব নাম কোন বইতে পড়িও নি।

ওঁরাও, মুন্ডা, সাঁওতাল নিয়ে কথা হতেই জানলাম- সাঁওতালরা অনেকেই নিজেদের একলব্যের বংশধর বলে মনে করেন। আমরা যেরকম প্রথম মানুষ হিসেবে আদম ও ইভের গল্প জানি, সেরকম একটি অদ্ভুত নতুন গল্প তিনি বললেন। মানুষের উদ্ভব নিয়ে শুনলাম এক অদ্ভুত সাঁওতালি উপকথা।

একদিন নাকি চাঁদের মেয়ে স্নান করতে এসেছিলেন পৃথিবীতে। তাঁর শরীরের ময়লা থেকে সৃষ্টি হল একটি পুরুষ  হাঁস ও একটি মেয়ে হাঁস। বেশ কিছুদিন ভেসে থাকার পর সেই হাঁসেদের খিদে পেল ও তারা ঈশ্বরের কাছে খাবার চাইল। ঈশ্বর দেখলেন খাবার দিতে গেলে একটি গোটা পৃথিবী বানাতে হবে। তাই তিনি পৃথিবী নির্মাণ করলেন।

কিছুদিন পরে মেয়ে হাঁসটি দুটো ডিম দিলো সেই ডিম থেকে বেরিয়ে এলো এক পুরুষ ও এক নারী। এরাই পৃথিবীর প্রথম নর ও নারী এদের নাম পিলচু হাড়াম ও পিলচু বুড়ি। তারা জন্ম দিল সাতটি ছেলে এবং সাতটি মেয়ের। জন্মের পর সেই সাত পুত্র এবং সাত কন্যাকে আলাদা করে দেওয়া হল। উভয় গোষ্ঠীকে উভয়ের থেকে অনেক দূরেও সরিয়ে রাখা হল। তবুও তাদের মধ্যে অবশেষে একদিন দেখা হয়েই গেল। এদের মধ্যে সাত জোড়া নর-নারী একে অপরের প্রতি আকর্ষিত হল ও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হল।

এই সাত জোড়া নর-নারী থেকে তৈরি হলো সাঁওতালদের সাতটি বংশ। এই সাতটি বংশকেই নাকি হয়- হাঁসদা, মুর্মু, কিস্কু, হেমব্রম, মারান্ডি, সোরেন এবং টুডু।

সব ইতিহাস যেখানে এক

আমরা মধ্যপ্রাচ্যের আদম ও ইভ এর গল্প শোনাই নর-নারী বা মানুষের উদ্ভব সম্বন্ধে জেনেছি।

কিন্তু হাতের কাছেই ঝাড়খন্ডের ছোটনাগপুর মালভূমিতেই এমন সাঁওতালি উপকথাও থাকতে পারে! ভাবতেও পারিনি। গালুডি ষ্টেশনে জীবনের এক সন্ধে না ব্যয় করলে জানাও হত না।

এঁদের থেকে শেখার আছে অনেক কিছুই শুনেছিলাম বটে। আমাদের যে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বা বিচারব্যবস্থা তার সঙ্গেও সাঁওতালদের অনেক মিল আছে। যেমন ওঁদেরও নাকি আদালত আছে এবং বিচার নিম্ন আদালত উচ্চ আদালত এই ভাবে চলে।

পথের বন্ধু গণেশ মুর্মু

গণেশ মুর্মু বসেছিলেন মেয়ে আসার অপেক্ষায়। মেয়ে গালুডি ফিরল কলেজ সেরে, কোন জামশেদপুরের কলেজের ছাত্রী।

উনি বিদায় জানানোর পর মনে পড়ল ওঁর ফোন নম্বর নেওয়া হয়নি। তবে পরেরবার নাম বলেই নিশ্চয়ই খুঁজে পাওয়া যাবে। আবার ফিরে আসব। গণেশ মুর্মু বলছিলেন ধলভূমগড় ঘুরে আসতে। রবিবারের হাট নাকি খুবই আকর্ষণীয় ধলভূমগড়ে। ধলভূমগড়ের পনেরো কিলোমিটার দূরে নাকি আরও এক মনোরম জায়গা গোটাশিলা পাহাড়। পর্যটকেরা ঘাটশিলা-রাঁচি পথে প্রায় সত্তর কিলোমিটার দূরে হেসাডি গিয়ে সাড়ে তিন কিমি দূরের হিরণি জলপ্রপাতটিও দেখে আসেন।

দুধ-সাদা জলপ্রপাতের জল  আড়াই হাজার ফুট উপর থেকে তিরতির করে পাথরে পড়ে কারো নদীতে মিশছে। হেসাডি থেকে কাছেই চক্রধরপুরের দিকে টেবো পাহাড়েও বেড়িয়ে নেওয়া যায়।

ঘরে ফেরার পালা

গালুডি’র ফাঁকা প্ল্যাটফর্ম আবার ভরে উঠেছে নিত্যযাত্রীদের ব্যস্ততায়।

বেশিরভাগ মানুষই রুজির সন্ধানে শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মাত্র দশ মিনিটেই সব আবার শুনশান।

গালুডি প্ল্যাটফর্ম ফাঁকা হল একসময়, এবার সিগারেট ধরালাম। আলো অন্ধকারে রেলের পুরোন বেঞ্চিতে ছাতিম গাছের তলায় বসে আমি। পাতার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে সাদা ধবধবে চাঁদ। রেললাইন অন্ধকারে মিশে যাওয়ার আগে জ্যোৎস্নায় আবছা দেখা যাচ্ছে ছোটনাগপুর মালভূমি’র টিলাগুলি।

আমি ছাড়া এখানে আশপাশে যা যা আছে সবই বড় পুরোনো। গাছ, স্টেশন, ছোটনাগপুর মালভূমি আর চাঁদ। এক জীবন বড় ছোট এদের গল্প শোনার জন্য। ঝাড়খন্ডের এই অশ্রুত গল্পগুলো আদিবাসী মানুষদে্র মুখে শোনার লোভেই, হয়ত বারবার ফিরে আসব অনাবিষ্কৃত ভারতের এই রুক্ষ প্রান্তরে।

যাওয়ার অন্যান্য দরকারি তথ্য পেতে পারেন এই লিংকে – https://ebela.in/entertainment/tour-destination-ghatshila-1.480326

গালুডি নিয়ে আমার অন্য লেখার লিংক – http://debanjanbagchi.com/যেতে-যেতে-১০/

দেবাঞ্জন বাগচী।

 

 

Leave a Reply

Solve : *
7 ⁄ 1 =