‘রহু চণ্ডালের হাড়’ নাটক

''রহু চণ্ডালের হাড়'' নাটক

‘রহু চণ্ডালের হাড়’ নাটক

‘রহু চণ্ডালের হাড়’ নাটক 720 960 সীমানা ছাড়িয়ে

‘রহু চণ্ডালের হাড়’ নাটক  বাজিকর গোষ্ঠীর থিতু হবার প্রচেষ্টা-নাট্যগোষ্ঠী আরশীনগরের উপস্থাপনা


‘রহু চণ্ডালের হাড়’ নাটক প্রেক্ষাপট –

ভারতীয় উপমহাদেশের কোণে কোণে বাসা বেঁধে বেড়ানোর গাথাই ‘রহু চণ্ডালের হাড়’ নাটকের প্রেক্ষাপট। পরতে পরতে দেড়শ’ বছরের ইতিহাসে বাজিকর গোষ্ঠীর পাঁচ পুরুষের থিতু হওয়ার ব্যর্থ প্ৰচেষ্টা আর বিলাপ। এই নিয়েই আবর্তিত হয়েছে “রহু চন্ডালের হাড়” উপন্যাসের কাহিনী। বাজিকরদের এমন একটি জনগোষ্ঠীকে অবলম্বন করে কিংবদন্তি-সম উপন্যাস লিখেছিলেন অভিজিৎ সেন। 

ওঁর একটি গল্প আমি অডিওবুক করেছিলাম, সময় থাকলে শুনতে পারেন http://1587) Audio story_ biddutprishto sei lokta_obhijit sen_বিদ্যুৎপৃষ্ট সেই লোকটা – YouTube

উত্তরবঙ্গের জেলায় জেলায় চাকরি করার সময় ছড়িয়ে থাকা এই গোষ্ঠীর সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। তাদের গল্পগুলি ছিল তাঁর প্রথম উপন্যাসের প্রেরণা।’রহু চণ্ডালের হাড়’ নাটক টি মঞ্চে এনেছেন ‘থিয়েটার আরশীনগর”-এর নির্দেশক রেজা আরিফ। 

বাজিকর পূর্বকথা


ছেলেবেলায় আমরা দেখতাম বাড়ির আশপাশে একদল মানুষ এসে হঠাৎ ছাউনি গড়তেন। রূপ অন্যরকম রুক্ষ-লালচে চুল, ফর্সা রং, অদ্ভুত তাদের তাদের জীবনযাত্রা, বেশভূষা ও জীবিকা। এই জনগোষ্ঠীর একটি ভাগ এসেছে পূর্ব গোলার্ধে, যাদের আমরা দেখতাম। এদেরকেই বলা হত বাজিকর। আরেকটি গেছে পশ্চিম দিকে, তাদেরকে “জিপসি” বা “রোমানি” বলা হয়। জেনেটিক অনুসন্ধানগুলি প্রমাণিত হয় যে রোমানিরা উত্তর-পশ্চিম ভারত ছেড়ে চলে গেছে প্রায় পাঁচশ’ খ্রিস্টাব্দে। তাদের সর্বাধিক ঘন জনসংখ্যা ইউরোপে, বিশেষত মধ্য পূর্ব এবং দক্ষিণ ইউরোপে। ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশেও এই গোষ্ঠীর প্রচুর দেখা যায়। আশ্চর্যের বিষয় বিশ্বজুড়ে বেশিরভাগ ‘রোমানি’ অথবা ‘জিপসি’ সম্প্রদায়ের মানুষই অত্যাচারিত অথবা নিপীড়িত।

পড়তে পারেন -https://en.m.wikipedia.org/wiki/History_of_the_Romani_people

বেদে বা বাদিয়া জনগোষ্ঠীকে জেমস ওয়াইজ সাতটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন। তার অন্যতম হল বাজিকর।  

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি – আন্তর্জাতিক রোমা সম্মেলনের সময়, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে রোমা সম্প্রদায়ের লোকেরা ভারতের সন্তান। সম্মেলনটিতে ভারতীয় নৃ-গোষ্ঠীর অংশ হিসাবে ৩০ টি দেশে ছড়িয়ে থাকা রোমা সম্প্রদায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ভারত সরকার কে একটি সুপারিশও করেছিল। বিমান হাজির, রাম-হনুমান ইত্যাদি মন্দির নির্মাণ নিয়ে ব্যস্ত ভারত সরকার এ বিষয় হয়ত ভুলে গেছেন। আর জিপসি-রা তো হিন্দুও নন!

‘রহু চণ্ডালের হাড়’-নাটকটি র কাহিনী

ভূমিকা

 এ তো গেল নৃতাত্ত্বিক কচকচানি। তবে লেখক এ ভুল করেন নি। তিনি জানেন তিনি গল্পই শোনাতে এসেছেন। দেড় হাজার বছরের সমস্যা, বাজিকরের ‘ধর্ম’ নেই। মুসলিমদের আছে আল্লাহ, হিন্দুর ভগবান আছে, খ্রিস্টানের যিশু। বাজিকরের তেমন কেউ নাই। তারা গরুও খায়, শুয়োরও খায়। বিপদে শরণাপন্ন হয় “রহু”র, যিনি বাজিকর দেবতা নয়, একজন প্রাচীন দলপতি।

বাজিকর জীবনের রোজনামচা

কেন ছুটে চলেছে বাজিকর? সূর্য-ওঠার দিকে সরে যেতে থাকে সদলবলে। পুবের দেশে যেতে থাকে সে অনবরত। তাদের পূর্বপুরুষেরাই এই পূর্বগমনের পূর্ববাণী করেছিলো – “হাঁ শারিবা, তোর নানার নানা পীতেম, তার বাপ দনু, তো সি কহিল, পীতেম, তুমু পচ্ছিমেৎ নয়, পুবেৎ যাবা। কেন কি, পুবেৎ তর্ক উঠে আর পচ্ছিমেৎ ডুবে যায়”কী করে আসলে তারা? চুরি করে, হাতসাফাই করে, ভানুমতীর খেল দেখায়। ডুগডুগ করে বেজে-ওঠা ঢোলের ভোঁতা আওয়াজ তাদের বিজ্ঞাপন। দলের নারীদের লাস্য তাদের আকর্ষণ। প্ৰতারণা, লোভ, কলেরা ও টিবি তাদের জীবনসঙ্গী।, বাঁশবাজি, দড়িবাজি, বাঁদর নাচানো, ভালুক নাচানো, কাঠের পুতুল নাচানো, নররাক্ষস হয়ে কাঁচা হাস, কাঁচা মুরগি চিবিয়ে খাওয়া, বিচিত্র চিকিৎসা পদ্ধতির ও সাজসজ্জার নানা পসরা নিয়ে বাজিকর পথে পথে ঘুরে। গল্পের গোষ্ঠীটি পশ্চিম থেকে পূবের দিকে চলছে। আগে সারা পৃথিবী ছিল তাদের চারণভূমি। এরপর হয়েছে নানা দেশ। তাদের ভুখন্ড সীমিত করেছে কাঁটাতার।

গোরখপুর থেকে আরও পুবে পাঁচবিবি পর্যন্ত তাদের কেবল স্থানবদল হয়। প্রতিবারই তাদের মনে হয়, এটা তাদের দেশ, এই তো তাদের স্বপ্নের নিকানো উঠান। শ্রুতির মাধ্যমে বেঁচে থাকে গোরখপুর। 

কেন এই ছুটে চলা?

কেন এই নিয়ত স্থান পরিবর্তন তাদের? তাদের উপকথা বলে, তাদেরই এক পূর্বপুরুষ পুরা বিয়ে করে তারই বোন পালিকে। দেবতার অভিশাপে তারা হয় ছিন্নমূল। এই ছিল দেবতার অভিশাপ। সেই থেকে বাজিকর পথে। সেই থেকে সে ধর্ম ও দেবতা থেকে বঞ্চিত। গৃহস্থের দুয়ার পর্যন্ত সে যায়, ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। এক ভিন্ন জীবন, এক অস্থির চলমান জীবনকে আশ্রয় করে আছে। পূর্বপুরুষ দনু পীতেমকে জানায় যে, রহু বাজিকরদের সঙ্গে থাকেন। নতুন ভূখণ্ডে তাদের স্থিতি না দেওয়া পর্যন্ত তাঁর মুক্তি নেই।

যাযাবর জীবন ছেড়ে থিতু হবার চেষ্টা

 
অথচ তারা বারবার এই আবর্ত থেকে বেরোতে চেষ্টা করে। পেমা প্রেমে পড়ে দারোগার ছেলের। সোজন ভালোবাসে ঝালোদের মেয়ে পাখিকে, যার হয়তো দুটো খাটো শাড়ি কেনার ক্ষমতাও নেই। ওমর লুকিয়ে ঘর বাঁধে নমশূদ্রের মেয়ে মালতীর সাথে। প্রতিটারই পরিণতি কষ্টে, বিচ্ছেদে এবং মৃত্যুতে।  তারা পেশাও পরিবর্তন করতে চায়। কেউ যায় সাঁওতালদের সঙ্গে, কেউ বাদিয়াদের সঙ্গে, কেউ শিখে আসে চাষবাস। কেউ রয়ে যায় শহরে এবং রোজগার শিখে বিত্ত অর্জন করে, কেউ শেখে হাপু গান। তারা পদার্পন করে স্বাধীন ভারতবর্ষে তাও স্থিতি আসে না। 
 

বাজিকর জীবনের মন্ত্রই হচ্ছে “পূবে যাও”।

 
 
প্রথমেই বলে দেওয়া লেখকের কথাগুলি মনে পড়ে যায়। “তারা কোথাও আশ্রয় পায় না এবং দেবতা তাদের অভিশাপ দিয়ে সম্পূর্ণ নিরাশ্রয় করে দেয়। তোমরা এক বৃক্ষের ফল দু-বার খেতে পারবে না, এক জলাশয়ের জল দু-বার পান করতে পারবে না, এক আচ্ছাদনের নিচে একাধিক রাত্রি বাস করতে পারবে না এবং সব থেকে ভয়ানক-এক মৃত্তিকায় দু-বার নৃত্য করা দূরে থাকুক, দু-বার পদপাত পর্যন্ত করতে পারবে না।”


নাট্যরূপ ‘রহু চণ্ডালের হাড়’-

‘রহু চণ্ডালের হাড়’ উপন্যাসের মতোই আরিফও অনেকটাই বৃহৎ ক্যানভাসেই নাটকটিকে মঞ্চে নিয়ে এসেছেন।

অভিনেতারা প্রায় পুরোটা সময় মঞ্চে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। অভূতপূর্ব এনার্জি নিয়ে কখনও তা হয়ে উঠেছে নিখুঁত জিমনাস্টিকস, কখনও বা ব্যালে। তার মান? তা শুধুই বিস্ময়! ‘রহু চণ্ডালের হাড়’ নাটকটির ঘটনার সময়কাল সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি অবধি। মূল গল্পে যদিও তা চলে এসেছে স্বাধীনতা-উত্তর ভারতবর্ষে। রাজমহলের গঙ্গার পাড়ে ওঠে বাজিকরের অস্থায়ী ছাউনি। সর্দার পীতেম চেয়েছিল থিতু হোক তাদের জীবন। শুরুতেই সঙ্গীতের সঙ্গে অবাক করা কোরিওগ্রাফি! এরপরই মঞ্চে আসে নানী লুবিনী ও তার নাতির গল্পগুজবের দৃশ্য। নানীর বলা গল্পের সূত্র ধরেই এগিয়ে চলে নাটক। মঞ্চে এসে হাজির হয় তাদের জীবনের লড়াই।

মাঝে মাঝেই নীল আলো সুন্দরভাবে ব্যবহার করা হয়েছে ম্যাজিক রিয়ালিজম মিশ্রিত দৃশ্যগুলিতে। সেই সঙ্গে সাদা পোশাকে দনু’র সিলওয়েট এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে। নাটকে এক অভিনেতাকে দিয়ে একাধিক চরিত্রে অভিনয় করানো হয়েছে, তবে উপস্থাপনার গুনে তা বেমানান হয়নি। কাহিনী ও সংলাপের ক্ষেত্রে পরিচালক লেখনী থেকে প্রায় বিচ্যুত হননি বললেই চলে। কাহিনীতে সংলাপ ছিল কম। বর্ণনার জায়গাতে অবিকল উপন্যাসের ভাষায় চরিত্রেরা বর্ণনা করেই গল্পকে টেনে নিয়ে গেছেন। 

'রহু চণ্ডালের হাড়' নাটক'রহু চণ্ডালের হাড়' নাটক


‘রহু চণ্ডালের হাড়’ নাটকটি সম্বন্ধে প্রতিবেদকের মত

‘রহু চণ্ডালের হাড়’ নাটক এক অসাধারণ পরিবেশন। এই উপন্যাসের ওপর যে নাটক মঞ্চস্থ করা যায় সেটা ভাবাই ছিল কঠিন কাজ। গল্পে কিছু জায়গা আছে যেখানে আমরা পাই ম্যাজিক রিয়ালিজম। সর্দারদের মৃত্যুর আগে যেমন রাতে দনু’র সঙ্গে দেখা হওয়া। সেই জায়গাগুলি পরিচালক সুন্দরভাবে ধরেছেন নাটকে। ছোরাখেলার দৃশ্যটি রোমহর্ষক।

নাটক ‘রহু চণ্ডালের হাড়’ সামান্য কিছু দুর্বলতাও চোখে পড়েছে। 


দু’ ঘন্টার নাটক ‘রহু চণ্ডালের হাড়’। খুব বড় নয়। তবুও অভিনয় ও শারীরিক সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে গিয়ে, কখনো কখনো অভিনয় দুর্বল হয়েছে। পরিচালক রেজা আরিফ জানিয়েছেন তাঁদের একাধিক মূল অভিনেতা অসুস্থ হয়ে মঞ্চে অনুপস্থিত ছিলেন সেদিন।

সঙ্গীত পরিকল্পনা ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে, তবে সঙ্গীতের ভলিউম বেশ উচ্চগ্রামে বাঁধা। যা সংলাপকে বারবার ছাপিয়ে গেছে।

‘রহু চণ্ডালের হাড়’ নাটকটি দেখে আরো একটি জিনিস মনে হয়েছে। এই উপন্যাস যাঁর পড়া নেই, নাটকটি মঞ্চে দেখে মূল গল্প বুঝতে সমস্যা হতে পারে। পাঠকেরা বলতেও পারেন কাহিনীটি মঞ্চে অসমাপ্ত রয়ে গেছে।

শেষ সর্দারদেরও কথা আসেনি। তবে, সব গল্পই তো সমাপ্ত হয় না, তা মেনে নেয়াও তো জীবন।

অভিনয় ও অভিনেতা যারা ‘ রহু চণ্ডালের  হাড় ‘নাটকটির মূল কান্ডারি

সবকিছু ছাপিয়ে এ নাটকে গল্পের উপস্থাপন আর টিমওয়ার্ক শুধুমাত্র মুগ্ধতাই রেখে যায়। অভিনেতাদের মধ্য মুগ্ধ করলেন – আইনুন পুতুল, স্বপ্নীল সোহেল, নিতাই কর্মকার, লিটন সূত্রধর, ফাহিম মালিক ইভান, নাহিদ সুলতানা, শ্যামাঙ্গিণী শ্যামা প্রমুখ।

মঞ্চের পেছনের কুশীলবেরা 


'রহু চণ্ডালের হাড়' নাটক
ড. সোমা মুমতাজের কোরিওগ্রাফিতে মঞ্চসজ্জা করেছেন আলী আহমেদ মুকুল। আলোক পরিকল্পনা করেছেন শাহীন রহমান। পোশাক পরিকল্পনায় ছিলেন রেজওয়ানা মৌরি রেজা।

নাটক’ রহুচণ্ডালের  হাড়’ মঞ্চায়নের দিন

ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের দর্শক মহলে জায়গা করে নিয়েছে রহু চণ্ডালের হাড়’ নাটকটি।কিছুদিন আগে (পয়লা মার্চ- দু’হাজার কুড়ি), পানিহাটি লোকসংস্কৃতি ভবনে নাটকটি দেখার সৌভাগ্য হল।

‘রহু চণ্ডালের হাড়’ নাটকের শেষে নির্দেশক রেজা আরিফ জানালেন মঞ্চ বেশ ছোট, তাই মঞ্চসজ্জায় অসুবিধা হয়েছে ও বেশ কিছু খেলা বাদ গেছে। এছাড়াও এই নাটকটি মঞ্চস্থ করার আগে ছয়-সাত ঘণ্টা সময় লাগে, সেট তৈরি করতে। এক্ষেত্রে শুরুর আগে মাত্র পঁয়তাল্লিশ মিনিট সময় পাওয়া যায়। তাতে নাটকটির সেট নির্দেশকের প্রত্যাশিত মান স্পর্শ করতে পারেনি।


‘রহুচণ্ডালের  হাড় ‘নাটক লেখকের বক্তব্য


বঙ্কিম পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘রহু চণ্ডালের হাড়’ নাটকটি কলকাতায় দেখার পর ঔপন্যাসিক অভিজিৎ সেন জানান, নাটকের প্রযোজনা তাঁর অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে। যদিও মূল গল্প থেকে নাটক বানানোর সময়, তা অনেকটাই সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছে সময় এবং মঞ্চের কথা ভেবে। 'রহু চণ্ডালের হাড়' নাটক

আগে বাংলাদেশীয় নাটক দেখার সৌভাগ্য হয়নি। প্রথম দর্শনেই আরশীনগর প্রযোজিত ‘রহু চণ্ডালের হাড়’ নাটকটি মুগ্ধ করল।

ছবি আন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত। 

Summary
Review Date
Reviewed Item
'রহু চণ্ডালের হাড়' নাটক
Author Rating
41star1star1star1stargray
Event
'রহু চণ্ডালের হাড়' নাটক

Leave a Reply

Solve : *
39 ⁄ 13 =